নোটিশ:
১৬ এপ্রিল, ২০২৫ 📒 ভর্তি ফরম Admission form داخلہ فارم ৬ এপ্রিল, ২০২৫ 📚 ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের তালিকা ৩ এপ্রিল, ২০২৫ 📒 আন-নাহদা ইন্টারন্যাশনার ইসলামিক স্কুল পবিত্র ঈদুল ফিতরের বন্ধ ও খোলার তারিখ ঘোষনা-২৫ Announcement of the closing and opening dates of the holy Eid-ul-Fitr of An-Nahda International Islamic School-25 ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ 📚 প্রবাসীদের সন্তানদের অভিভাবকের দায়িত্ব গ্রহণ…..Taking on the responsibility of guardianship of the children of expatriates….. ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ 📕 এ. আই. ইসলামিক স্কুল বন্ধ থাকবে প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার….. A. I. Islamic School will be closed every Friday and Saturday….. ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ 📒 ভর্তি চলছে…….ভর্তি চলছে…….ভর্তি চলছে……. আলহামদুলিল্লাহ! আন-নাহদা ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কুলে প্রি-স্কুল থেকে ক্লাস ওয়ান পর্যন্ত সকল শ্রেণিতে ভর্তি চলছে। আপনার সন্তানকে ভর্তি করাতে আজই যোগাযোগ করুন। 01928719151
ভিউ: ১.৫৫k
মাদরাসা পরিচালনার নিয়ম কানুন Rules and regulations for running a madrasa

মাদরাসা পরিচালনার নিয়ম কানুন
পৃথিবীতে দ্বীন টিকিয়ে রাখার জন্য মাদরাসা জরুরী। কিন্তু মাদরাসা দ্বারা তখনই দ্বীন রক্ষার খেদমত আশা করা যায়, যখন মাদরাসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে সহীহ উসূল অনুযায়ী চলবে এবং মাদরাসাকেও সহীহ উসূল অনুযায়ী চালাবে। অন্যথায় না দ্বীনের হেফাযত হবে আর না নিজেদের উন্নতি সাধন হবে বরং সময় আর অর্থ নষ্ট ছাড়া কিছুই হবে না। প্রত্যেকটা মাদরাসা যেন দ্বীন রক্ষার একেকটা কেল্লায় পরিণত হতে পারে তাই নিম্নে মাদরাসার কমিটি, ছাত্র, শিক্ষক ও মুহতামিম এর জন্য দিকনির্দেশনামূলক সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করা হলো। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের উক্ত আলোচনার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন!
১. আমরা মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি হই আর মুহতামিম হই বা সাধারণ শিক্ষক হই, আমাদের নিজেদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য দু’টি কাজ করতে হবে।
ক. কোন হক্কানী বুযুর্গের সুহবত অবলম্বন করতে হবে এবং তার সাথে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম রাখার মাধ্যমে দিলের দশটা রোগ থেকে মুক্ত হওয়া এবং দশটি গুণ অর্জন করার মেহনত করতে হবে।
খ. নিজের ঈমান ও আমলের তরক্কীর জন্য দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত করতে হবে। কারণ ব্যক্তি যতক্ষণ নিজের উন্নতির ফিকির না করে সে যতই উম্মতের ফিকির করুক তার দ্বারা কোন কাজ হয় না। খুব ভাল করে জানা দরকার,কোন ব্যক্তি নিজের ঈমান আমলের উন্নতির চিন্তা ফিকির না করলে তাকে দিয়ে আল্লাহ ইসলামের কাজ নিবেন না। বস্তুত নিয়ত থাকবে নিজের উন্নতির, এর মধ্য দিয়ে অন্যের উন্নতিও হয়ে যাবে। নিজের ফিকির না করে আগে অন্য লোককে ঠিক করতে গেলে শুরুতেই তার থেকে অহংকার প্রকাশ পায়। আর আল্লাহ তা‘আলা অহংকারী থেকে দ্বীনের খেদমত নেন না।
২. আমাদের মাদ্রাসা জীবিত মাদরাসা না মৃত মাদরাসা? মৃত মাদরাসা বলে ঐ মাদরাসাকে যেখানে শিক্ষকদের সকল মেহনত ছাত্রদের মধ্যে সীমিত; বাইরের জনগণের দ্বীনী উন্নতির জন্য তাদের কোন ফিকির ও মেহনত নেই।
একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয় ছাত্রের নামে এবং তা পরিচালিত হয় টাকার মাধ্যমে। ছাত্র এবং অর্থ এই দুই জিনিসতো আসবে জনগণ থেকে। আর জনগণ এগুলো তখনই দিবে যখন তাদের জন্য আমাদের মেহনত থাকবে এবং তাদের মধ্যে দ্বীন থাকবে। আর এটাই মূলনীতি কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে। তাদেরকে কিছুই দিব না, শুধুই চাইতে থাকবো, তাহলে কিছুই পাওয়া যাবে না। যে মাদরাসা শুধুই ছাত্রদের পিছনে মেহনত করে, বাইরে কোন মেহনত করে না সেটা হল মৃত মাদরাসা। আর যে মাদরাসা ছাত্রদের উপর মেহনত করার সাথে সাথে বাইরের মানুষের ঈমান-আমল ও কুরআন সহীহ করে দেয়া, জরুরী মাসায়িল শিখানো ইত্যাদির মেহনত করে সেই মাদরাসা হলো জিন্দা মাদরাসা। জনগণের দীনি তরক্কীর জন্য মাদরাসা পরিচালক এবং আসাতিযায়ে কেরাম নিম্নোক্ত উপায়ে মেহনত করতে পারেঃ
আম জনতা ও এলাকাবাসীর উপর দুই লাইনে মেহনত করবেঃ
(ক) তাবলীগের লাইনে ।
(খ) দাওয়াতুল হকের লাইনে।
তাবলীগের দ্বারা ঈমান শিখাবে আর দাওয়াতুল হকের দ্বারা যাবতীয় আমলের মেহনত করবে। যেমনঃ নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ, বিবাহ-শাদী কাফন-দাফন ইত্যাদি সুন্নাত মোতাবেক করার প্রশিক্ষণ দেয়া। তাবলীগের দ্বারা জনগণের ইমান মজবুত হবে এবং তাদের মাঝে আমলের আগ্রহ পয়দা হবে। আর দাওয়াতুল হকের মাধ্যমে তাদের আমল বিশুদ্ধ ও সুন্নাত তরীকায় হবে এবং তারা সহী সুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে শিখবে।
প্রয়োজনে আশপাশের একেক গ্রামকে একেক শিক্ষকের দায়িত্বে দিয়ে দিবে। তারা ঐ গ্রামের মানুষকে তাবলীগে পাঠাবে। আমলী মশকের মাধ্যমে উযু নামায ও যাবতীয় আমলের সুন্নত তরীকা শিখাবে। নূরানী পদ্ধতিতে ২/৩ মাসে চক স্লেটের মাধ্যমে তাদের কুরআন সহী করে দিবে। এভাবে ২/৩ মাস চলার পর তার পার্শ্ববর্তী গ্রামে পর্যায়ক্রমে কাজ করবে।এতে কোন গ্রামের কোন লোক মাদরাসার বিরুদ্ধে থাকবে না; বরং প্রতিটি লোক মাদরাসার পক্ষে এসে যাবে। আর এভাবেই মাদরাসা জিন্দা মাদরাসা হবে। নতুবা মাদরাসা মুর্দা থেকে যাবে।
শুধু শিশু ছাত্রদেরকে পড়ালে হবে না; পাকা দাঁড়ীওয়ালাদেরকেও ছাত্র বানাতে হবে, যাদের কবরে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। মুহতামীম সাহেব সর্বস্থানে তদারকী করবেন। কোন উস্তাদ কতটুকু কাজ করলেন তার তদারকী করবেন। এবং ঐ সকল গ্রামবাসীর ইন্টারভিউ নিবেন। দায়িত্বশীল উস্তাদগণ স্ব-স্ব এলাকায় গিয়ে আসরের নামায আদায় করবেন এবং মাগরিবের আগ পর্যন্ত উক্ত মেহনত করবেন।
ছাত্রদের উপর দুই লাইনে মেহনত করতে হবে:
(ক) তা‘লীম।
(খ) তরবিয়াত।
তা‘লীম অর্থ কিতাব পড়ানো আর তরবিয়াত হল কিতাবের ছাপানো লেখাগুলো তার শরীরে ছেপে দেয়া অর্থাৎ তাদের আমলী জীবন গঠন করে দেয়া, বাংলাতে যাকে বলে শিক্ষা-দীক্ষা। এর জন্য উস্তাদদের ‘সুহবাত ইয়াফতাহ’ হতে হবে এবং ছাত্রদেরকে হক্কানী শাইখের সুহবতে বসার ব্যবস্থা করতে হবে।
মাদরাসার হিসাব যেভাবে রাখবে:
মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরেকটি জরুরী বিষয় হলো, মাদরাসার হিসাবটা খুবই মজবুতভাবে রাখবে। যে যেই উদ্দেশ্যে মাদরাসায় দান করবে তার টাকা সেই কাজেই ব্যয় করবে। কোন সময় যাকাত ফান্ডের টাকা যেন সরাসরি বেতন ফান্ডে না আনা হয় বা নির্মাণে খরচ না করা হয়। টাকা খাত ওয়ারী ব্যয় করতে হবে। খরচ যদি গলতভাবে করা হয় তাহলে ঐ মাদরাসার কোন ছাত্র আল্লাহওয়ালা হবে না। কোন মাদরাসায় যদি মাদরাসার সম্পদের ব্যবহার সহীহভাবে না হয় সেখান থেকে সহীহ আলেম পয়দা হয় না।
জেনেশুনে কারো হারাম টাকা নেয়া যাবে না। জানা আছে যে, এক লোকের পূর্ণ মালই হারাম-তাহলে তা নেয়া যাবে না। হ্যাঁ, নিলে সেটা টয়লেটের কাজে লাগাতে হবে। এ টাকা দিয়ে বেতন দিলে বা লিল্লাহ বোডিং এ ব্যয় করলে ছাত্র গড়বে না। আয়-ব্যয়ের ব্যাপারে খাত ঠিক রাখতে হবে।
তবে লিল্লাহ ফান্ড থেকে অন্য ফান্ডের জন্য সাময়িক করজ নেয়া জায়িয আছে। তবে তা ফেরত দিতে হবে। অথবা সহীহ পদ্ধতিতে শরঈ তামলীক করতে জানলে সেভাবে করবে। প্রচলিত হিলার আশ্রয় নিবে না, যার দ্বারা মানুষের যাকাত কুরবানী নষ্ট হয়ে যায়।
আমাদের মুরব্বীগণ বলেছেন, মাদরাসা এমন দ্বীনী প্রতিষ্ঠান, যেখানে দু’টি জিনিস যথাযথ সংরক্ষণ করা হয়। ১.মুসলমানদের সন্তানদের সঠিকভাবে তা’লীম তরবিয়াতের মাধ্যমে হিফাযত করা অর্থাৎ ইলম ও আমল শিখানো হয়।
২. মুসলমানদের অনুদান সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে হিফাযত করা। অর্থাৎ মালগুলো সঠিক খাতে খরচ করা এবং প্রত্যেকটি পয়সার হিসাব রাখা। প্রত্যেকটা আয় রশিদের মাধ্যমে হতে হবে, আর প্রত্যেকটি ব্যয় খরচের ভাউচারের মাধ্যমে হতে হবে। রশিদ ব্যতীত কোন টাকা মাদরাসায় জমা নেয়া হবে না। সব টাকা রশিদ দ্বারা মাদরাসায় ঢুকবে আর খরচের ভাউচারের মাধ্যমে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যাবে। পাকা খাতা তথা ক্যাশ বুক থাকবে, যেখান থেকে খাতওয়ারি লেজার বুকে যাবে।
হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেছেন, ক্যাশের সাথে তোমরা চারজন লোককে জড়িত কারো যাতে মাদরাসার সম্পদে কোন খেয়ানত না হয়। যার ব্যাখ্যা নিম্নরুপঃ
১. মুহতামিম বা নায়েবে মুহতামিমঃ তাঁর কাজ হল ভাউচার অনুমোদন দেয়া। এভাবে যে, তিনি দেখবেন, এই খরচটা আদৌ প্রয়োজনীয় কিনা বা কত কম টাকায় এটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায়। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন মুহতামিম বা তার নায়েব।
২. আর কমিটির কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে মাসে বা সপ্তাহে একবার ভাউচারে সই করার জন্য । তাহলে ওটা হবে চূড়ান্ত অনুমোদন।
৩. যিনি ক্যাশিয়ার হবেন, তার কাছে রশিদের মাধ্যমে টাকা জমা হবে আর অনুমোদিত ভাউচারের মাধ্যমে খরচ হবে। রশিদ দেখে-দেখে খাতার মধ্যে টাকা জমার সাইডে জমা করবে। আর যে ভাউচারগুলো অনুমোদন হয়ে এসেছে সেগুলো ডান পাশে খরচের পাতায় লেখবে। খাতার বাম পাশে জমা লিখতে হয়, আর ডান পাশে খরচ। ক্যাশিয়ারের একটা নিজস্ব খাতা থাকবে যাকে বলে জার্নাল বা কাচা খাতা। এটা নিজস্ব হিসাব ঠিক রাখার জন্য, যাতে পকেট থেকে ভর্তুকি দেয়া না লাগে। এই দায়িত্বে যারা থাকবে তাদের খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে, খাতায় খরচের কথা না লিখে কাউকে টাকা দিবে না। পরবর্তিতে খাতায় উঠিয়ে নিবো, এই মনে করে কখনো আগে টাকা দিবে না। কেননা, পরে আর মনে নাও থাকতে পারে, তখন ঐ টাকা নিজের পকেট থেকে দেয়া লাগবে।
ক্যাশিয়ার প্রতিদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখে দেখবে যে, আজকে তার হাতে কত আছে। এটাকে বলে ডেইলি ব্যালেন্স। প্রত্যেক দিন ক্যাশ মিলাবে। কারণ যে কোন সময় মুহতামিম বা কমিটির কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে যে, ক্যাশিয়ার সাহেব! আজকে আপনার ক্যাশ ইন হ্যান্ড অর্থাৎ হাতে কত টাকা আছে? তিনি সাথে সাথে বলবেন যে, আজকে আমার হাতে এত আছে। এভাবে মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নিবে যে ক্যাশ ঠিক মত আছে, না ক্যাশিয়ার সাহেব ওখান থেকে ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহ করছে।
৪. হিসাব রক্ষকঃ তার কাছে মাদরাসার পাকা খাতা থাকবে এবং লেজারবুক থাকবে , ক্যাশবুকে তো রশিদের মাধ্যমে যত টাকা এসেছে সবই বাম পাশে উঠে গেছে, আর সকল খরচাদি ডান পাশে উঠে এখানে কোন খাত পার্থক্য করা হয়নি। কিন্তু এগুলো যখন লেজারবুকে যাবে তখন জমার সাইড এবং খরচের সাইড উভয়টি খাত ওয়ারী লেজারে উঠবে। প্রত্যেক খাতের জন্য লেজার বুকে কয়েক পৃষ্ঠা বরাদ্দ করা থাকবে এবং পৃষ্ঠা নং সহ সূচিপত্র থাকবে।
ক্যাশিয়ার সাহেব আজকে যত টাকা জমা হয়েছে এবং যত টাকা ভাউচারের মাধ্যমে খরচ হয়েছে সেগুলোর রশিদ বহি ও খরচের ভাউচার আগামীকাল হিসাবরক্ষকের কাছে দিবেন। নিজের পার্সোনাল হিসাবের খাতা তাকে দিবে না। তাকে দেখাবেও না, এটা একেবারেই নিষিদ্ধ।
হিসাব রক্ষক সাহেব নিজে রশিদ দেখে দেখে জমার সাইড লিখবেন আর খরচের ভাউচার দেখে খরচের সাইড লিখবেন। এর পর যোগ-বিয়োগ করে ক্যাশ ইন হ্যান্ড বের করবেন। অতঃপর দু’জনে মতবিনিময় করবেন যে ভাই! আপনার ক্যাশ ইন হ্যান্ড কত? তখন ক্যাশিয়ার বলবেন আমার কাছে আজকে এত আছে। হিসাব রক্ষক বলবেন, আমারও এত আছে, উভয়ের কথা মিলে গেলে ঠিক আছে। আর যদি গড়মিল হয় তাহলে যেকোনো একজন ভুল করেছেন বলে ধরা হবে এবং উভয়ে হিসাব দ্বিতীয় বার ভালো করে মিলাবে ও ভুল ঠিক করে নিবে।
মুহতামিম বা হিসাব রক্ষকের কাছে টাকা থাকবে না। টাকা থাকবে ক্যাশিয়ারের কাছে। মোটকথা, অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে থাকবে দুই জন, ক্যাশে একজন, আর হিসাব রক্ষক হিসাবে একজন, মোট চারজন। এই চারজন লোক যদি হিসাবের কাজে জড়িত থাকে তাহলে মাদরাসার এক টাকাও কোন দিন অবৈধভাবে ব্যবহার হতে পারে না। চারজন একমত হলে টাকা মেরে নেয়া সম্ভব কিন্তু চারজন একমত হওয়া সহজ নয়। একই সাথে চারজন লোক গোমরাহ হবে না। সাধারণভাবে মাদরাসাগুলোতে যে হিসাব রক্ষক থাকে সেই ক্যাশিয়ার হয়, তারা একের ভিতর দুই করে রেখেছে। এটা করার কারণে যত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সারাবছর সঠিক উপায়ে হিসেব রেখে বছরের শেষে সরকার অনুমোদিত কোন অডিট ফার্ম দ্বারা হিসাব নিরীক্ষণ করিয়ে নিবে। তাহলে আর কোন দায়দায়িত্ব থাকবে না। কেউ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ করতে পারবে না। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুক।
মোটকথা, এভাবে যদি সঠিক নিয়মে মাদরাসা পরিচালনা করে নিজের জন্য, তালিবে এলেমের জন্য এবং এলাকার লোকদের জন্য আমরা মেহনত করি, তাহলে এলাকায় দ্বীন চমকে যাবে। সকল মানুষ দ্বীনদার হয়ে যাবে, মাদরাসার মধ্যে ছাত্র সংকট ও অর্থ সংকট থাকবে না ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ আমাদেরকে আমলের তাওফীক দান করুন ! আমীন।
লেখকঃ মুফতি মনসুরুল হক হাফিঃ

Rules and regulations for running a madrasa

Madrasa is essential for preserving religion in the world. But a madrasa can only serve to protect religion when all those involved in the madrasa follow the correct principles and run the madrasa according to the correct principles. Otherwise, neither the religion will be protected nor will we improve ourselves, but rather, nothing will happen except wasting time and money. So that every madrasa can become a fortress for protecting religion, below are some brief guidelines for the madrasa committee, students, teachers and muhtamim. May Allah Ta’ala grant us the ability to act on the above discussion!
1. Whether we are the managing committee of the madrasa and whether we are muhtamim or ordinary teachers, we have to do two things for our own spiritual development.
a. One should seek the company of a righteous elder and by establishing a good relationship with him, one should strive to be free from the ten diseases of the heart and to acquire ten virtues.
B. One should strive to preach and preach for the advancement of one’s faith and actions. Because as long as a person does not think about his own progress, no matter how much he thinks about the Ummah, nothing will be accomplished by him. It is important to know very well that if a person does not think about the advancement of his faith and actions, Allah will not take the work of Islam from him. In fact, the intention will be for his own progress, and through this, the progress of others will also be achieved. If one tries to correct others without thinking about himself first, arrogance will be revealed from him at the very beginning. And Allah Almighty does not accept the service of religion from the arrogant.
2. Is our madrasa a living madrasa or a dead madrasa? A dead madrasa is a madrasa where all the efforts of the teachers are limited to the students; They have no thought or effort for the religious progress of the outside people.
A madrasa is established in the name of the students and is run through money. Students and money will come from the people. And the people will give them these only when we work for them and there is religion in them. And this is the basic principle, if you want to get something, you have to give something. If you don’t give them anything, you will only ask, then you will not get anything. A madrasa that only works after the students and does not work outside is a dead madrasa. And a madrasa that works on the students and also works on making the faith and deeds of the outside people correct and the Quran correct, teaching important matters, etc. is a living madrasa. For the religious progress of the people, the Madrasa Director and Asatizai Keram can work in the following ways:
They will work on the general public and the local people in two lines:
(a) On the line of Tabligh.
(b) On the line of Dawatul Haq.
They will teach faith through Tabligh and work on all acts through Dawatul Haq. For example, training in performing prayers, fasting, zakat, Hajj, marriage, shrouding and burial, etc. according to the Sunnah. Through Tabligh, the faith of the people will be strengthened and the interest in action will be created among them. And through Dawatul Haq, their actions will be pure and in the Sunnah way and they will learn to read the Quran correctly.
If necessary, they will give each village in the vicinity the responsibility of a teacher. They will send the people of that village to Tabligh. The practitioner will teach the Sunnah of ablution and all the practices through the mask. He will make them memorize the Quran through chalk slate in 2/3 months in the Noorani method. After 2/3 months, he will work in the neighboring villages in stages. In this way, no one in any village will be against the madrasa; rather, every person will come in favor of the madrasa. And in this way, the madrasa will be a living madrasa. Otherwise, the madrasa will remain dead.
Not only will we teach the children; we will also have to make the bearded ones, whose time has come to go to their graves, students. The Muhtamim Sahib will supervise everywhere. He will supervise how much work a teacher has done. And he will interview all those villagers. The responsible teachers will go to their respective areas and offer the Asr prayer and will do that work until Maghrib.
Students should be worked on in two lines:
(a) Ta’lim.
(b) Tarbiyat.
Ta’lim means teaching the book and Tarbiyat is imprinting the printed texts of the book on their bodies, that is, shaping their practical life, which is called Shiksha-Diksha in Bengali. For this, the teachers should be ‘Suhbat Yaftah’ and arrangements should be made for the students to sit in the company of the Haqqani Sheikh.

How to keep the accounts of the madrasa:

Another important thing in running the madrasa is to keep the accounts of the madrasa very strong. Whoever donates to the madrasa should spend the money for that purpose. At no time should the money from the zakat fund be brought directly to the salary fund or spent on construction. The money should be spent according to the account. If the expenses are made in a wasteful manner, then no student of that madrasa will be a follower of Allah. If the resources of a madrasa are not used properly, then a true scholar will not emerge from it.
No one can knowingly take someone’s forbidden money. It is known that the entire wealth of a person is forbidden, so it cannot be taken. Yes, if you take it, it should be used for toilet purposes. If you pay your salary with this money or spend it on Lillah boarding, the student will not develop. You must keep a proper account of income and expenditure.
However, it is permissible to take a temporary loan from the Lillah fund for another fund. However, it must be returned. Or if you know how to do Shariah transactions in the correct manner, you can do so. Do not resort to conventional hilarity, which wastes people’s Zakat and sacrifice.
Our teachers have said that a madrasa is a religious institution where two things are properly preserved. 1. Protecting the children of Muslims through proper education and upbringing, i.e. teaching them knowledge and deeds.
2. Safeguarding the donations of Muslims through proper use. That is, spending the funds in the right way. and keep an account of every penny. Every income must be through a receipt, and every expenditure must be through an expense voucher. No money will be deposited in the madrasa without a receipt. All money will enter the madrasa through a receipt and will leave the madrasa through an expense voucher. There will be a cash book, from which the ledger will go to the ledger book.
Hakimul Ummat Ashraf Ali Thanvi (may Allah have mercy on him) said, “There are four people involved in cash so that there is no fraud in the assets of the madrasa.” The explanation of which is as follows:
1. Muhtamim or Nayeb Muhtamim: His job is to approve the voucher. In this way, he will see whether this expense is necessary at all or how little money it can be done nicely. This will be examined and verified by the Muhtamim or his Nayeb.
2. And someone from the committee will be given the responsibility of signing the voucher once a month or a week. Then that will be the final approval.
3. The person who will be the cashier will have money deposited through receipts and expenses will be incurred through approved vouchers. After checking the receipts, he will deposit the money in the account on the deposit side. And the vouchers that have been approved will be written on the right side of the account on the expense page. Deposits should be written on the left side of the account, and expenses on the right side. The cashier will have his own account, which is called a journal or raw account. This is to keep his own accounts in order so that he does not have to pay subsidies from his pocket. Those who will be in this position will have to take very good care that they do not give money to anyone without writing about the expenses in the account. They will never give money in advance thinking that they will withdraw it from the account later. Because, later, they may not remember, then the money will have to be paid from their own pocket.
The cashier will write a daily income and expenditure account to see how much he has in hand today. This is called the daily balance. Cash will be received every day. Because at any time, the Muhtamim or someone from the committee can ask, “Cashier Sahib! How much cash do you have in hand today?” He will immediately say, “I have this much in hand today.” In this way, he will occasionally check whether the cash is correct or whether the cashier is making personal expenses from there.
4. Accountant: He will have a fixed account of the madrasa and a ledger book. In the cash book, all the money received through receipts is on the left side, and all the expenses are on the right side, and no distinction is made here. But when these go to the ledger book, both the deposit side and the expense side will be in the ledger separately. Several pages will be allocated for each account in the ledger book and there will be an index with page numbers.
The cashier will give the receipt book and expense vouchers of all the money received today and all the money spent through vouchers to the accountant tomorrow. He will not give him his personal account book. Don’t even show him, it is absolutely forbidden.
The accountant will look at the receipt and write the deposit side and look at the expense voucher and write the expense side. After that, he will add and subtract to find out the cash in hand. Then the two of them will exchange views, brother! How much is your cash in hand? Then the cashier will say, I have this much today. The accountant will say, I also have this much, if both of them agree, it is okay. And if there is a discrepancy, then one of them will be considered to have made a mistake and both of them will reconcile the accounts a second time and correct the mistake.
The muhtamim or accountant will not have money. The cashier will have money. In short, there will be two people in the approval process, one in the cashier, and one as the accountant, a total of four people. If these four people are involved in the accounting work, then not a single taka of the madrasa can ever be used illegally. If four people agree, it is possible to steal money, but it is not easy for four people to agree. Four people will not be misled at the same time. Generally, the accountants in madrasas are cashiers, they have two inside one. All the problems are arising due to this.
Keep the accounts properly throughout the year and get the accounts audited by a government-approved audit firm at the end of the year. Then there will be no more liability. No one will be able to complain about money being misappropriated. May Allah protect us.
In short, if we run the madrasa in the right way like this, for ourselves, for the students of knowledge and for the people of the area, then the religion will be shocked in the area. All people will become religious, there will be no student crisis and financial crisis in the madrasa, Insha Allah! May Allah grant us the tawfeeq of action! Amen.
Author: Mufti Mansurul Haq Hafeez