ফিলিস্তিন বা প্যালেস্টাইন মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণাংশের একটি ভূখণ্ড।
ফিলিস্তিন অঞ্চলটি পৃথিবীর প্রাচীন অঞ্চল গুলোর একটি, যেখানে মানুষের বসবাস, কৃষিনির্ভর জনসমষ্টি এবং সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। একসময় ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে। আরব মুসলমানেরা ছিল সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিরা ফিলিস্তিনে এসে বাসা বাঁধতে থাকে। তাদের সংখ্যা ক্রমে বাড়ে। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চলছে। কতদিন চলবে কেউ তা জানে না।

আরব ও মুসলমানরা বেশির ভাগ সময় ইহুদিদের বন্ধু থেকেছে।
ফিলিস্তিনের দাবি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর দখল করা পূর্ব জেরুজালেমসহ আরব ভূমি ফেরত দেওয়া হোক। জেরুজালেমকে নিজেদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় ফিলিস্তিন বাসী। ১৯৬৭ সালে ছয় দিন স্থায়ী আবর-ইসরায়েল যুদ্ধের পর জেরুজালেমকে দখল করে ইসরায়েল তা নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েলের এই দাবি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। ফিলিস্তিন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকেই লক্ষ্য করা যায়।

রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের সীমানাই তো এখনো নির্ধারণ করা যায়নি!
১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় ৭ লাখের মতো ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যারা আজও ঘরে ফিরতে পারেনি। প্রায় ৭২ বছর ধরে এ বিষয়ে বিশ্ববিবেকও আশ্চর্যজনকভাবে নির্বাক ও নিশ্চুপ হয়ে রয়েছে। ১৯১৭ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিন ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফিলিস্তিনের অর্থনীতি মূলত জলপাই তেল উত্পাদনের উপর ভিত্তি করে, প্রায় ১২ মিলিয়ন জলপাই গাছ দেশের ভূখণ্ডে বৃদ্ধি পায়। চামড়াজাত পণ্য, টেক্সটাইল এবং সিরামিক পণ্যও উত্পাদিত হয়। গাজা এখন নিয়ন্ত্রণ করে হামাস। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল হামাস। অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী গুলো ইসরায়েলের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে হামাস তাকে স্বীকৃতি দেয় না। হামাস কি তবে সন্ত্রাসী সংগঠন?

ফিলিস্তিনিরা কি শেষ পর্যন্ত সত্যিই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পাবে?
হামাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এখন সিরিয়া, ইরান এবং লেবাননের হেযবোল্লাহ গোষ্ঠী। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু- এই দুজনেই মানুষ হিসেবে উন্নত না। তাদের ঘাড়ের রোগ ত্যারা। তাদের গোয়ার্তমির কারনে সাধারণ জনগন মরছে। ইসরাইল স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি ফিলিস্তিন। বর্তমানে ফিলিস্তিন ২ হাজার ৪০০ বর্গমাইলের কয়েক টুকরো ভূমি মাত্র। বিশ্বমানচিত্রে ফিলিস্তিন বলে নির্দিষ্ট কোন দেশের অস্তিত্ব কখনোই ছিলো না। জাতিসংঘের ১২৬টি দেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশির ভাগ পশ্চিমা দেশ এখনো এ রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।

মুসলিম বিশ্বের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দেশ ফিলিস্তিন।
আজ অবধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। আজ ৭০ বছর পরও অধরা স্বাধীন ফিলিস্তিনের স্বপ্ন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৭ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ব্রিটিশদের অধীনে চলে যায়। ৬৭ বছরের বেশি হল মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা ইহুদিরা জবরদখল করে আছে। অসহায় ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের আবাসভূমি ও আল-কুদ্স তথা বায়তুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী দাবি করে আসছে ফিলিস্তিন। পাকিস্তান তাদের এ দাবিকে ন্যায্য বলে সমর্থন দিয়ে আসছে।